যে পানীয়গুলো ওজন বাড়ায়!

যে পানীয়গুলো ওজন বাড়ায়!

যে পানীয়গুলো ওজন বাড়ায়!

পানিও পান করা ভাল। কিন্তু ভুল পানিও আপনার ভালোর চেয়ে খারাপ করতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন কিছু পানীয়ের নাম
উল্লেখ করা হয় যা ওজন বাড়াতে দায়ী। ওই পানীয়গুলির বিষয়ই এখানে তুলে ধরা হল।

চকোলেট দুধ

শুধু দুধের নাম শুনলেই নাক সিঁটকান অনেকেই। তবে সেই দুধের সঙ্গে চকলেট
মিশিয়ে দিলেই তা হয়ে যায় দারুণ পছন্দের পানীয়। তবে অনেকেই জানেন না
মুখরোচক এই পানীয় ওজন বাড়াতে দায়ী। এক গ্লাস চকোলেট দুধে ২০০ থেকে
২৫০ ক্যালরি থাকে যা একটি অর্ধেক বার্গারের সমপরিমাণ। যেখানে এক গ্লাস
দুধে ৭০ ক্যালরি থাকে। তাছাড়া এক গ্লাস চকলেট দুধে থাকে পাঁচ গ্রাম স্যাচারেইটেড
ফ্যাট। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দিনের শুরুতে চকলেট দুধ পান না করাই উচিত।

স্পেশাল কফি

কফিতে কোন ক্যালরি নেই। তবে কফি আরও মুখরোচক করে তৈরি করতে দুধ,
চিনি ও বিভিন্ন ফ্লেইভারযুক্ত করার কারণে কফি হয়ে দাঁড়ায় ওজন বাড়ার কারণ।
সারাদিন সতেজ থাকতে অনেকেই সকালে কফি পান করে থাকেন। তবে ওজন
নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে সকালের কফিতে কোন বাড়তি স্বাদ যোগ করা উচিত নয়।

সকালের কফিতে বাড়তি চিনি ও ক্রিম মেশালে প্রতি এক কাপ কফি থেকে
সর্বমোট ২০০ ক্যলরি পাওয়া যায়। তেমনি বিভিন্ন ধরণের কফি দিয়ে তৈরি পানীয়তে
প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে। এসব কফিতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি এবং
পুষ্টিমান কম থাকে। তাই সকালের নাস্তায় এবং ওজন কমাতে চাইলে যে কোন
মুখোরোচক কফিজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।

কলা দিয়ে মিল্কশেইক

মিল্কশেইক খেতে সুস্বাদু, তবে যারা ডায়েট করেন তাদের জন্য এই পানীয় খুব একটা
উপকারী নয়। কলা’তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম যা
শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে একটি কলায় প্রায় ১০০ বা এর বেশি ক্যালরি
থাকে। আর মিল্কসেইক তৈরি করতে কলার সঙ্গে দুধ, চিনি, ক্রিম ও আরও
অনেক ফ্লেইভার যুক্ত করতে হয়।

আর এক কাপ দুধ, একটি কলা, চিনি, ক্রিম বা সিরাপ ও বিভিন্ন রকমের
ফ্লেইভার যুক্ত করা হলে এক গ্লাস মিল্কশেইকে ক্যালরির পরিমাণ প্রায় ৩০০
থেকে ৪০০’তে গিয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের মিল্কশেইক স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ ও
ওজন বর্ধক।

চর্বি যুক্ত দই

দই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং এতে ফ্যাট এবং প্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলক
কম থাকে। তবে সকালের নাস্তার জন্য দই দিয়ে কিছু বিশেষ পানীয় তৈরি করা
হয় যাতে অতিরিক্ত ফ্যাট যুক্ত করা হয়। যা দেহের ক্ষতি করে থাকে। এসব দই
সকালে খাওয়ার ফলে এর অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বাড়ায়। তাই সকালের
নাস্তায় দই খেতে চাইলে ক্যালোরি কম আছে এমন দই বেছে নেওয়া উচিত।

স্মুদি

দোকানে তৈরি স্মুদিতে ফলের রসের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি এবং ফ্লেইভার যুক্ত করা
হয়। ফলের রস স্বাস্থ্যকর হলেও স্মুদি তৈরির সময় এর সঙ্গে কৃত্রিম রং,
ফ্লেইভার ও চিনি যুক্ত করার ফলে এটি হয়ে যায় খুবই অস্বাস্থ্যকর একটি পানীয়।
ঘরে তৈরি স্মুদিতেও অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়।

তাই সকালের নাস্তায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে অবশ্যই স্মুদি পান করা
থেকে বিরত থাকতে হবে।

সোডা

সোডা জাতীয় পানীয় যেমন কোক, পেপসি, ফান্টা, স্প্রাইট ইত্যাদি আপনার
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম এবং কৃত্রিম
সুইটনার ব্যবহার করা হয়। যা দ্রুত আপনার ওজন বৃদ্ধি করে থাকে। এমনকি
ডায়েট ড্রিংকও ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। ডায়েট ড্রিংকে চিনি না থাকলেও চিনির
বিকল্প ব্যবহার করা হয়। “যখন আপনি ডায়েট ড্রিংক পান করেন, তখন তা
শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন করে ওজন বৃদ্ধি করে দেয়”।

এনার্জি ড্রিংক

এনার্জি ড্রিংক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আপনার ওজনও বৃদ্ধি করে থাকে। এই
সকল ড্রিংকে প্রচুর পরিমাণে চিনি, ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে, যা
আপনার ওজন বৃদ্ধি করার সাথে সাথে ক্যান্সারের মত রোগ সৃষ্টি করে থাকে।

প্রক্রিয়াজাত জুস

ব্যস্ততার কারণে আধুনিক জীবনে প্রায় সবাই বাজারের প্রক্রিয়াজাত জুস খেয়ে
থাকেন। কিন্তু আপনি জানেন কি প্রক্রিয়াজাত জুসে মাত্র ৩% সত্যিকারে
ফলের নির্যাস দেওয়া হয়! বাকি অংশটুকু সম্পূর্ণ চিনি, সুইটনার অথবা অন্য
রাসায়নিক উপাদান। যার কারণে আপনার ওজন হ্রাসের পরিবর্তে বেড়ে যায়।

শুধু সফ্ট ড্রিংক থেকে ৩০ কেজি চিনিঃ

যে পানীয়গুলো ওজন বাড়ায়!

জার্মানিতে ছয় বছরের একটি বাচ্চা লিমোনেড বা ফান্টা জাতীয় মিষ্টি পানীয়
পান করার মধ্য দিয়ে বছরে প্রায় ৫ কেজি চিনি শরীরে ঢুকিয়ে থাকে৷ আর
১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হিসেব বেড়ে দাড়ায় ৩০ কেজি৷ সেজন্যই
জার্মানির ডায়াবেটিস সাহায্য সংস্থা স্কুল, কিন্ডারগার্টেন বা কাছাকাছি দোকানগুলোতে
মিষ্টি পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করার পক্ষে৷

বিশেষজ্ঞের পরামর্শঃ

বাবা-মায়ের উচিত বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই মিষ্টি জাতীয় সফ্ট ড্রিংক পান
করার অপকারিতা সম্পর্কে জানানো৷ কারণ, পরে অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে
তা কমানো খুবই কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়৷ সময়মতো এদিকে নজর দিলে
অনেক সমস্যার সমাধান নিজে থেকেই হয়ে যায়৷ এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞদেরও
উচিত বাচ্চার বাবা-মাকে আগে থেকে জানানো, পরামর্শ ড. ডানের৷

মুখের এক্সারসাইজ।৩/৪ কেজি ওজন কম মনে হবে ওজন কমানো ছাড়াই. face exercise

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *