দীর্ঘদিন আচার-চাটনি ফাঙ্গাসমুক্ত রাখার উপায়

দীর্ঘদিন আচার-চাটনি ফাঙ্গাসমুক্ত রাখার উপায়

দীর্ঘদিন আচার-চাটনি ফাঙ্গাসমুক্ত রাখার উপায়

আচার-চাটনি মূলত তৈরি হয় বাড়িতেই।
অনেকে কেচাপও বাড়িতে বানান।
ঘরে তৈরি যেকোনো জিনিসে থাকে আলাদা যত্নের ছোঁয়া।
অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে যেন ‘কয়েক সের ভালোবাসা’ও যোগ হয়ে যায় তাতে।
এমন যত্নে তৈরি জিনিসটা সংরক্ষণের সময়ও হতে হবে যত্নশীল।
তাহলে তা ভালো থাকবে বেশ খানিকটা সময় পর্যন্ত।

আচার সংরক্ষণ-

আচার পরিবেশনের সময় বয়াম থেকে কিছুটা আচার আলাদা পাত্রে তুলে নিন আগে।
সরাসরি বয়াম থেকে পরিবেশন করবেন না, খাবার টেবিলে হঠাৎ করে হাত বা চামচ থেকে পানি পড়ে যেতে পারে আচারের বয়ামে।
পানির সংস্পর্শ কমানোর প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে আচার তৈরির শুরুর সময় থেকেই।
হয়তো আমের আচার করছেন।
আম ছিলে বা কেটে বাকি প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই তা ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন, প্রয়োজনে মুছে নিন।
এরপর কাটা বা ছিলার কাজ করুন।
কাটা-ছিলা হয়ে যাওয়ার পর আর পানিতে ভেজানো যাবে না।
এরপর আচার চুলায়ই দিন বা রোদেই রাখুন, পানি ব্যবহার করবেন না।
তেলের আচার করলে প্রথমে তেল একটু গরম করে নিতে হবে। কাঁচা তেল ব্যবহার করবেন না।
চিনির সিরকা ব্যবহার করলে তা আগেই ঘন করে নিন, এরপর আম দিতে হবে।

যে বয়ামে আচার রাখবেন, তা একেবারে শুকনো হতে হবে।
বয়ামের ভেতর বা ঢাকনার ভেতরের অংশ, কোনোখানেই যেন সামান্য পরিমাণেও পানি বা জলীয় বাষ্প না থাকে।
যে চামচ দিয়ে বয়াম থেকে আচার তোলা হবে, তা পরিষ্কারভাবে ধোয়ার পর মুছে শুকনো করে নিন।
এরপর তা আচার তোলার কাজে ব্যবহার করুন।
আচার তৈরির পর প্রথম মাস তিনেক রোজ সারা দিনের জন্য রোদে দিন আচার।
এই সময় খেয়াল রাখুন, বয়ামের মুখে বাষ্প বা পানি জমছে কি না।
বাষ্প বা পানি জমতে থাকলে সাবধানে মুখটা খুলে তা মুছে ফেলতে হবে, যেন আচারের মধ্যে এই পানি না পড়ে।
তিনটি মাস এই ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
তিন মাস পর সময়-সুযোগ বুঝে রোদে দেওয়া ভালো।
রোদে দেওয়ার সময় বয়ামের মুখ খুলে দিতে পারেন, তবে মুখের ওপর পাতলা কাপড় বা নেট–জাতীয় কিছু বিছিয়ে দিতে হবে।
আর যদি মুখ বন্ধ অবস্থাতেই রোদে দেওয়া হয়, তাহলে রোদ থেকে আনার পর ২০-৩০ মিনিটের জন্য বয়ামের মুখ খুলে রাখুন,
যাতে জলীয় বাষ্প উড়ে যেতে পারে।
বয়ামের মুখে পানি জমে থাকলে তা মুছে দিন।

চাটনি সংরক্ষণ-

চাটনি তৈরি করার পর ১-২ দিন বাইরে রাখা যায়।
এরপর ফ্রিজে উঠিয়ে রাখতেই হবে। নইলে নষ্ট হয়ে যাবে।
১৫-১৬ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে চাটনি ভালো থাকে।
যে জিনিসের চাটনি (যেমন কাঁচা আম, জলপাই বা আনারস) তৈরি করছেন,
সেটির মৌসুম চলে গেলেও যদি চাটনি তৈরি করার ইচ্ছা থাকে,
সে ক্ষেত্রে মৌসুম থাকতে থাকতেই সেটি টুকরা করে নিয়ে ছোট পলিপ্যাক,
জিপার ব্যাগ বা কনটেইনারে করে ফ্রিজে রেখে দিন।
ফ্রিজে রাখার আগে ভাপিয়েও নিতে পারেন চাইলে।
এক দিনে আপনি যতটা পরিমাণ নিয়ে চাটনি তৈরি করবেন,
ঠিক ততটা পরিমাণই রাখুন প্রতিটি প্যাকেট বা কনটেইনারে।
একটি প্যাকেট বা কনটেইনার থেকে একবার কিছু পরিমাণ বের করার পর
কিছুটা রেখে দিলে রেখে দেওয়া অংশটুকুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে এভাবে প্রায় ৭-৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে,
যা থেকে প্রয়োজনমতো চাটনি বানিয়ে নেওয়া যায়।

কেচাপ সংরক্ষন-

কেচাপ তৈরি করার পর যে বোতলে রাখবেন, তা যেন পুরোপুরি শুকনো হয়।
বোতলের মুখ খোলার এক-দেড় মাসের ভেতরই যেন তা শেষ করা যায়,
এমন পরিমাণেই একটি বোতলে কেচাপ রাখা উচিত (রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকলেও)।
রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ না দেওয়া হলেও বোতলটি ২-৩ দিন বাইরে রাখা যায়।
তবে এরপর ফ্রিজে রাখতেই হবে।
রাসায়নিক উপাদানের চাইতে প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য বেশি ভালো।
তাই রাসায়নিক উপকরণের বদলে রসুন,
চিনি এগুলো একটু বেশি পরিমাণে দেওয়া যায়,
যা প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভের কাজ করে।
তবে প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ দেওয়া কেচাপের বোতল ৩-৪ দিনের বেশি বাইরে রাখা যায় না।
রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ছাড়া তৈরি করা কেচাপ মাসখানেক ভালো রাখতে হলে ফ্রিজে রাখতেই হবে।
রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করলে অবশ্য বোতলটি বাইরে রাখা যায় ৬-৭ মাস।
তবে মনে রাখবেন, প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকলেও কেচাপের বোতলের মুখ খোলা হয়ে গেলেই ফ্রিজে ঢোকাতে হবে।
রাসায়নিকের ব্যবহার এড়িয়ে বরং পিউরি করে সংরক্ষণ করতে পারেন।
পিউরি জিপার ব্যাগ বা কনটেইনারে করে ডিপ ফ্রিজে রাখুন।
৬-৭ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

দীর্ঘদিন আচার ফাঙ্গাসমুক্ত রাখার উপায় নিয়ে কিছু টিপস

# সিরকা ও সোডিয়াম বেনজোয়েট দিলে আচার দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
সংরক্ষক দ্রব্যঃ লবণ, চিনি, সিরকা বা ভিনেগার মসলা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি আচার বেশ কয়েক বছর ভাল থাকে।

# পানি ব্যবহার করলে আচার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।

# হাত দিয়ে আচার নাড়বেন না, চামচ ব্যবহার করুন। আচার বয়াম থেকে নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, চামচে যেন পানি না থাকে।

# কাঁচের বয়ামে আচার ভালো থাকে।

# মাঝেমধ্যে আচার রোদে দিলে ভালো থাকে।

# আচারে তেল কম হলে তেল ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে দিলে গন্ধ হয় না।

# চুনের পানি, ফিটকিরিতে আম ভিজিয়ে রাখলে আচার বানানোর সময় আম ভেঙ্গে যায় না।

# যাদের আচার রোদে দেবার জায়গার অভাব তারা নিশ্চিন্তে আচার ডীপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।
চাটনি এভাবে রাখলে নষ্ট হবে না।
সেক্ষেত্রে আচারে সিরকা বা সোডিয়াম বেনজোয়েট না দিলেও চলবে।
তবে কাশ্মীরি আচারের ক্ষেত্রে সিরকা দেয়া হয় স্বাদ এর জন্য ।

# আচার বইয়মে রেখে ঠান্ডা সরিষা তৈল দিয়ে ডুবিয়ে ফেলুন।
ভিতরে যেন কোন বাতাস না থাকে এজন্যে বইয়মটি হালকা ভাবে ঝাঁকি দিন।
আচার তৈল দিয়ে ডুবিয়ে রাখলে কখনই ফাঙ্গাস পড়বেনা।
আচারে তৈল দিয়ে রোদে দিবেন, তাতে আচারের ভিতরে বাতাস বেরিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *