শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম, দোয়া ও ফজিলত

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম, দোয়া ও ফজিলত

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম, দোয়া ও ফজিলত

লাইলাতুল কদর’ হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। [সূরা আল-কদর, আয়াত ৩] 💖

শবে কদরের একটি রাতে ইবাদত আর আল্লাহর সরণের মাধ্যমে আপনি, আমি, আমরা ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান সওয়াব অর্জন করতে পারি। ইবাদতের এই সুবর্ণ সুযোগ যেন আমাদের হাত ছাড়া না হয়। আল্লাহ তা’আলা আমাদের তাওফীক দিন। আমীন! 💖

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্দর অনুসন্ধান কর।”[সহীহ বুখারী (২০১৭) ও সহীহ মুসলিম (১১৬৯)]

তার মানে নির্দিষ্ট কোন রাতকে কেন্দ্র করে কদর পালন করলে চলবেনা। যেমন টা আমাদের দেশে ২৭ এ রমজানকে মনে করা হয়। শেষ ১০ রমজানের প্রতিটি বেজোর রাতেই শবে কদর তালাশ করা উচিত। যেমন, ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত্রিতে।

লায়লাতুল কদরের নামাযের নিয়ম কানুন-

নামাজের নিয়ত আরবীতে :
“নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তা‘আ-লা- রাক‘আতাই ছালা-তি লাইলাতুল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কা‘বাতিশ্ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার”।

বাংলায় নিয়ত:- “আমি ক্বেবলামূখী হয়ে আল্লাহ্ এর উদ্দেশ্যে শবে কদরের দু‘রাক‘আত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবার”।
অথবা, দুই রাকাত কদরের নামাযের নিয়ত করতেছি-আল্লা-হু আকবার।

শবে কদরের নামাজ :
শবে কদরের নামাজ দু‘রাকাত করে যত বেশী পড়া যায় তত বেশি ছওয়াব। নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর সূরা ইখলাছ, সূরা ক্বদর, আয়াতুল কুরছী বা সূরা তাকাছুর ইত্যাদি মিলিয়ে পড়া অধিক ছওয়াবের কাজ। এই ভাবে কম্পক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এর বেশি যত রাকাত আদায় করা যায় ততই ভালো।

কেউ যদি উপরে উল্লেখিত সূরাগুলো না পারেন তাহলে সূরা ফাতিহা পড়ার পর যে সূরাগুলো আপনি পারেন তার মধ্য থেকে প্রতি রাকাতে একটি করে সূরা মিলিয়ে নিতে হবে। এই ভাবে কম্পক্ষে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। এর বেশি যত রাকাত আদায় করা যায় ততই ভালো।

প্রতি ৪ রাকাত পর পর কিছু তাসবিহ-তাহলীল আদায় করে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া কামনা করা অতি উত্তম। এই ভাবে সারা রাত নামাজ আদায় করা যেতে পারে।

পবিত্র শবে কদরে এই ভাবে নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যেতে পারে। তাই আসুন এই পবিত্র মাসের বিজোড় রাতগুলোতে মহান আল্লাহর নিকট নিজেকে সপে দিয়ে হাজার বছর ইবাদতের সওয়াব অর্জন করি। এই পবিত্র রাতে আমরা বেশী বেশী করে নফল নামাজ এবং কোরআন তিলাওয়াত করি।

লায়লাতুল কদরের বিশেষ দোয়াঃ
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওয়ুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য ও ফযীলাত 🌟

(১) এ রাতে আল্লাহ তা‘আলা পুরা কুরআন কারীমকে লাউহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে নাযিল করেন। তাছাড়া অন্য আরেকটি মত আছে যে, এ রাতেই কুরআন নাযিল শুরু হয়। পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র উপর অবতীর্ণ হয়। 💖

(২) এই এক রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। 💖

(৩) এই রাতে পৃথিবীতে অসংখ্য ফেরেশতা নেমে আসেন এবং তারা তখন দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। 💖

(৪) এটা শান্তি বর্ষণের রাত। এ রাতে ইবাদত গুজার বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তির বাণী শুনায়। 💖

(৫) এই রাতের ফাযীলত বর্ণনা করে এই রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। যার নাম সূরা কদর। 💖

(৬) এই রাতে নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়। 💖

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,” যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করেদেন।” (বুখারী, মুসলিম) 💖

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্দর অনুসন্ধান কর।”[সহীহ বুখারী (২০১৭) ও সহীহ মুসলিম (১১৬৯)]

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *