বলিরেখা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন

বলিরেখা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন

বলিরেখা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানুন

বলিরেখা মানেই জানিয়ে দেয়া যে আমাদের বয়স হয়েছে। বলিরেখা মানেই মনে করিয়ে দেয়া আমাদের সৌন্দর্যের সব শেষ। বলিরেখা সম্পর্কে সাধারণত সবার একটি ধারণা যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি হবে এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। কিন্তু আসলেই কি তাই? আপনার বিভিন্ন কাজ, ত্বকের যত্ন এবং প্রোডাক্টের ব্যবহারের মধ্যে পরিবর্তন এনে আপনি বলিরেখা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এখানে বলিরেখা সম্পর্কে কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হল।

যাদের বেশি বলিরেখা সমস্যা হয়: পুরুষের চেয়ে মহিলাদের মুখে এবং ঠোঁটের চারপাশে বেশি বলি রেখা পড়ে। ঠোঁটের চারপাশে এরকম বলি রেখা কে perioral wrinkle বলা হয়। নেদারল্যান্ড এর এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পুরুষের ঠোঁটের চারপাশে sweat gland বেশি এবং মুখে circulation বেশি হয়। তাই ঠোঁটের কাছে পুরুষের বলিরেখা মেয়েদের চেয়ে কম পড়ে।

বলিরেখার প্রধান কারণ: অনেকেই মনে করেন যে বলিরেখার প্রধান কারণ বয়স। অর্থাৎ যার বয়স বাড়তে থাকবে তার শুধু মাত্র বলিরেখা থাকবে। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। বলিরেখার প্রধান কারণ হল সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি। বলিরেখা থেকে রক্ষা পেতে চাইলে প্রতিদিন এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন যেটাতে অন্তত SPF-30 আছে যা আপনার ত্বক কে UVA আর UVB থেকে রক্ষা করবে।

কতো বছর বয়স থেকে সতর্ক হবেন: বেশিরভাগ মানুষের ধারণা ৩০ বছরের পর থেকে বলিরেখা যেন না পড়ে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু এটাও একটা ভুল কথা। ২০ বছর বয়স থেকেই বলিরেখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের। সানস্ক্রিন এর ব্যবহার হল best anti-aging treatment, তাই ২০ বছর বয়স থেকেই retinoids আর টপিকাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহার করা শুরু করতে হবে।

মুখের বিভিন্ন ভঙ্গী: সব সময় আড় চোখে দেখা, ভ্রু আর কপাল কুঁচকে তাকানো, অতিরিক্ত হাসিসহ ঘন ঘন বিভিন্ন facial expression এর কারণে মুখে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। অনেকেই না বুঝে নিজে নিজেই বিভিন্ন মুখের ব্যায়াম করে মুখের ত্বক ঠিক রাখার জন্য। কিন্তু এ ধরণের ব্যায়াম কখনোই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আর ইনিস্ট্রাক্টর ছাড়া করা উচিত নয়। হয়ত নিজেকে ইয়াং দেখাতে চেষ্টা করতে গিয়ে আপনি ভুলে আপনার মুখে বলি রেখা পড়ার রাস্তা সহজ করে দিচ্ছেন।

কি প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন: যে প্রোডাক্টগুলোতে retinoids, alpha- hydroxyl acids, azelaic acid আছে সেগুলো ব্যবহার করবেন। এগুলো ত্বক কে বলিরেখার হাত থেকে রক্ষা করে। এগুলোর মধ্যে azelaic acid আর alpha- hydroxyl acid হল natural based acid.

ধূমপান: গবেষণার মাধ্যমে দেখা গিয়েছে যে, facial wrinkle বা বলিরেখা ধূমপানের কারণেও হয়। নিয়মিত ধূমপান করেন এমন ২০ বছর বয়সী কয়েকজনের মুখের ত্বক Microscope এর নীচে পরীক্ষা করে বলিরেখা দেখা গিয়েছে এবং গবেষণায় এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে যাদের নিয়মিত ধূমপান করার কারণে বলিরেখা পড়ে তারা ধূমপান করা ছেড়ে দিলে বলিরেখাগুলো হালকা হয়ে আসে।

Age spot কে অবহেলা করবেন না। এইজ স্পট দেখা দিলে সাবধানে থাকুন। কারণ এইজ স্পট স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ত্বকে যেকোনো পরিবর্তন আসলে dermatologist কে দেখান। Non-cancerous spot সাধারণত skin-bleaching প্রোডাক্টগুলোর মাধ্যমে হালকা করা যায়।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: আপনার ত্বকে বলিরেখা দেখা দিলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বক কে শুষ্ক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে আর ত্বক যত কম শুষ্ক থাকবে তত কম বলিরেখা বোঝা যাবে।

সূর্যের আলো: এটা একটা ভুল ধারণা যে শুধু খুব কড়া রোদের জন্যই বলিরেখা পড়বে। সূর্যের আলো গায়ে পড়বে এমনভাবে বাড়ি থেকে বের হলে তখন অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এমন কি আপনার প্রাইভেট কার এ করে কোথাও যাওয়ার সময় গ্লাসের ভেতর দিয়ে UVA রশ্মি আপনার ত্বকের ক্ষতি করবে। তাই বাড়ির বাইরে বের হলেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

চোখের মেক-আপ আর বলি রেখা: চোখের মেক-আপ তোলার সাথে বলিরেখার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে খুব জ়োরে জোরে ঘষে আই মেকআপ তোলা হলে সাময়িকভাবে বলিরেখা পড়তে পারে যা আবার ঠিক হয়ে যায়।

রাতের মেকআপ আর বলি রেখা: রাতে মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যাওয়ার সাথে বলি রেখার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে মেকআপ না তুলে ঘুমাতে গেলে ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিবে।

সুত্রঃ পরিবর্তন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *